মান্দা উপজেলা ছাত্রদল এর আলোচিত কে এই তানভির?
নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই মোঃ তানভির ইসলাম এর বেড়ে ওঠা প্রতিকূল পরিবেশে । পারিবারিক ভাবে বিএনপি সমর্থক এবং বাবা বিএনপির পদধারী নেতা হওয়ায় ছোট বেলা থেকেই নিজ চোখে অনেক কিছু দেখতে হয়েছে এবং সহ্য করতে হয়েছে তাকে । প্রাথমিক শিক্ষাজীবনে প্রথমে ভর্তি হোন মৈনম সরকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর উন্নত শিক্ষার জন্য ভর্তি হোন শ্রীরামপুর (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে । প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে পার্শ্ববর্তী স্কুল সতিহাট কে.টি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করেন । তানভির ছোট বেলা থেকেই একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সৃজনশীল ব্যক্তি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন তিনি বহুবার । কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন এবং ডিজিটাল প্রেজেন্টেশন এ উপজেলা প্রথম হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছেন এই তরুণ । হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেকে বিভিন্ন ভাবে প্রমাণ করেছেন বহুবার । তানভিরের রাজনৈতিক যাত্রা মূলত সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনী থেকেই বিদ্যালয়ের ক্যাপ্টেন নির্বাচনে সবোর্চ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন তানভির । তারপর থেকেই রাজনীতির প্রতি একটা ভালো লাগা সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে দেশের জন্য দেশের মানুষের কাজ করার জন্য তার ব্যাপক আগ্রহ ছিলো এবং বিশেষ করে তার পরিবারের প্রতি অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা উপলব্ধি করে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলো যে সে দেশ ও দেশের মানুষকে একটি পরিবর্তনের রাজনীতি তথা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি উপহার দিবে । তার পর পরই আসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তখন পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মান্দা উপজেলার বিএনপির আহবায়ক তার নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে বিলীন করে তখন থেকে তানভিরের রাজনীতিতে আরও বেশি আগ্রহ চলে আসে তারপর ঠিক ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তানভির ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট কিছু কিছু আন্দোলন-মিছিলে যোগদান এইভাবেই চলতে থাকে তানভির এর রাজনৈতিক জীবন । এরপর সময়ের পরিক্রমায়—দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতেও ছিলেন সক্রিয়।কোটা সংস্কার আন্দোলন,স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন—শুরুতে অংশগ্রহণ ছিল সীমিত,তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাকে তৈরি করেছে আরও দৃঢ়ভাবে । ছাত্র জনতার সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় বিগত স্বৈরাচার সরকারের মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ২৭ দিন ঘর ছাড়া হতে হয়েছে তানভিরকে । তানভিরের শুরুর দিকে কোনো পদ পদবি ছিলো না বয়সে কম হওয়ার কারণে কোনো পদে ছিলো না তানভির কিন্তু পারিবারিক ভাবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন কিছু সহ্য করতে হয়েছে তাকে । বর্তমানে তিনি মৈনম ইউনিয়ন ও মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা।এছাড়াও দায়িত্ব পালন করছেন—• Co-ordinator, GC - BNP Grassroots Network (BGN), নওগাঁ-৪• সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ), নবজাগরণ দল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি• সহ প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রযুক্তি দল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি• সহ দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচার দল, নওগাঁ জেলা শাখা• সাধারণ সম্পাদক, জিয়া সাইবার ফোর্স, ০৬ নং মৈনম ইউনিয়ন শাখা । দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন মোঃ তানভির ইসলাম এক আবেগঘন খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জিয়া পরিবারের প্রতি তার কমিটমেন্টে কখনো কোনো ঘাটতি ছিল না। স্বার্থ বা প্রাপ্তির জন্য নয়, আদর্শের জায়গা থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি।তিনি আরও তুলে ধরেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও ধৈর্যের কথা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট নিজেকে তিনি একজন আদর্শিক কর্মী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করতে চান । তবে শুধু রাজনীতি নয় সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার সক্রিয় উপস্থিতি।গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝেশীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, চাল-ডাল-তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়া সবখানেই ছিল তার আন্তরিক উদ্যোগ।মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্যশিক্ষা সামগ্রী, ইসলামিক বই, ইসলামিক উপকরণ বিতরণ,এতিম শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা,মশারি বিতরণ এবং একবেলা খাবারের ব্যবস্থা এসব কার্যক্রমে তিনি রেখেছেন মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।এছাড়াও চারা গাছ বিতরণ,ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন সবসময় ।একটি ভিডিও বার্তায় তানভির ইসলাম বলেন— “আমি পদ-পদবির আশায় রাজনীতিতে আসিনি…আমি রাজনীতিতে এসেছি আমার দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার জন্য।”এই বক্তব্যই যেন তার পুরো পথচলার প্রতিচ্ছবি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী এক তরুণ নেতৃত্ব। তার প্রতিটি সামাজিক কার্যক্রম,মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিটি উদ্যোগ প্রমাণ করে, তিনি সত্যিই মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চান।আজ তিনি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নন, বরং সারা দেশব্যাপী অর্জন করেছেন ব্যাপক প্রশংসা ও গ্রহণযোগ্যতা। রাজনৈতিক অঙ্গনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী,এমনকি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সবার মুখেই আজ একটি নাম মোঃ তানভির ইসলাম ।অনেকেই মনে করেন বর্তমান সময়ের এই তরুণ নেতৃত্ব ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখবে। কারণ তিনি শুধু কথা বলেন না কাজ করে দেখান।সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ান,দুঃসময়ে হয়ে ওঠেন ভরসার প্রতীক। মানুষের বিশ্বাস তানভির শুধু একজন ছাত্রনেতা নন, তিনি একটি সম্ভাবনা,একটি পরিবর্তনের প্রতীক।তার এলাকায় তিনি আজ একজন গর্বিত সন্তানের নাম, একটি আস্থার জায়গা, একটি নির্ভরতার প্রতীক।তরুণ সমাজের অনেকেই তাকে অনুসরণ করে, তার পথচলাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, আর স্বপ্ন দেখে একদিন তার মতো করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ।