রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা চত্বর আজ পরিণত হয়েছে এক বর্ণিল উৎসবমুখর মিলনমেলায়। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এখানে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা, যা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকেই উপজেলা চত্বরজুড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় বসেছে অসংখ্য দোকান—যেখানে স্থান পেয়েছে বাহারি রঙের খেলনা, মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, শোপিস, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানান সামগ্রী, গ্রামীণ অলংকার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা। প্রতিটি দোকান যেন গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য নাগরদোলা, দোলনা ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন মেলাকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। মিষ্টি, পিঠা, জিলাপি, বাতাসা ও নানা ধরনের দেশীয় খাবারের ঘ্রাণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন।
মেলার আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও রৌমারী মুক্তাঞ্চল সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা পরিবেশন করেন বাউল গান, পালাগান, লোকগীতি ও আধুনিক সংগীত। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী গামছা মনির, যার প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকরা মেতে ওঠেন মাটির গানের সুরে।
শুধু বিনোদন নয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বেগবান করবে।
স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, এমন আয়োজন তাদের মাঝে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। অনেকেই মনে করেন, আধুনিকতার ছোঁয়ার মাঝেও এই ধরনের গ্রামীণ মেলা বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই সুন্দর মেলবন্ধন রৌমারীর উৎসবমুখর পরিবেশকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। নববর্ষের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মনে—এই প্রত্যাশাই সবার।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা চত্বর আজ পরিণত হয়েছে এক বর্ণিল উৎসবমুখর মিলনমেলায়। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এখানে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা, যা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকেই উপজেলা চত্বরজুড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় বসেছে অসংখ্য দোকান—যেখানে স্থান পেয়েছে বাহারি রঙের খেলনা, মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, শোপিস, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানান সামগ্রী, গ্রামীণ অলংকার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা। প্রতিটি দোকান যেন গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য নাগরদোলা, দোলনা ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন মেলাকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। মিষ্টি, পিঠা, জিলাপি, বাতাসা ও নানা ধরনের দেশীয় খাবারের ঘ্রাণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন।
মেলার আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও রৌমারী মুক্তাঞ্চল সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা পরিবেশন করেন বাউল গান, পালাগান, লোকগীতি ও আধুনিক সংগীত। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী গামছা মনির, যার প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকরা মেতে ওঠেন মাটির গানের সুরে।
শুধু বিনোদন নয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বেগবান করবে।
স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, এমন আয়োজন তাদের মাঝে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। অনেকেই মনে করেন, আধুনিকতার ছোঁয়ার মাঝেও এই ধরনের গ্রামীণ মেলা বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই সুন্দর মেলবন্ধন রৌমারীর উৎসবমুখর পরিবেশকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। নববর্ষের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মনে—এই প্রত্যাশাই সবার।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

আপনার মতামত লিখুন