বাপসনিউজঃ আমি নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, সেই আলোকেই আমি কথা বলি।খবর আইবিএননিউজ ।
ফেডারেল প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার নবনির্বাচিত সভাপতি গৌতম লাহিড়ী গত ২৯ জুন ২০২৬,সোমবার “স্মরণে ৭১,হৃদয়ে বাংলাদেশ” সংগঠনের প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জামাতের সাথে বিএনপির বিরোধ লোক দেখানো, কারণ লোক দেখানো যদি নাই হতো তাহলে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় যেতেন না।
মালয়েশিয়ার প্রধান মন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জামাত শিবিরের সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে গৌতম লাহিড়ী আরও বলেন বেশ কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া সরকার কিছু জঙ্গি গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যা জামায়াত ইসলাম ভালো ভাবে নেয়নি। জামাত ইসলামই মালয়েশিয়া সফরের জন্য তারেক রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে এবং তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যেতে বাধ্য হন।এ সফরের মূল বিষয় হচ্ছে জঙ্গিদের গ্রেফতার করে যেন ফেরত না পাঠানো হয়।
গৌতম লাহিড়ী আরো জানান, মালয়েশিয়া থেকে তারেক রহমান চীন যান, সেখানে তিনি আর্থিক সাহায্য চান। চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন – সেগুলো নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তারেক রহমান। শি জিংপিং চাচ্ছেন মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে একটি করিডর তৈরি করতে, যেটাতে আমেরিকারও সুবিধা হবে কিন্তু তারেক রহমান ভালো করেই জানেন এই করিডর দিলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
বিএনপি সরকারের ওপর অনেক দেশই এখন অসন্তুষ্ট তার চীন সফরের কারণে। তারেক রহমানের যে উদ্যোগ সে উদ্যোগের কারণে বিএনপি সরকারকে বিপদে ফেলছে।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, জনগণ মনে করেছিলেন বিএনপি সরকার গঠন করার পর এমন কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবেন যা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম থেকে ভিন্ন হবে, কিন্তু এখন যা দেখা যাচ্ছে চাপে হোক কিংবা অন্য কারণেই হোক তারেক রহমান সরকারের চিন্তা বাংলাদেশে প্রগতিশীল শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে না দেওয়া। সেটা আওয়ামী লীগ হতে পারে বা আওয়ামী লীগের সমর্থক কোন উদারপন্থী ব্যক্তিও হতে পারে।
চাঁদাবাজির যে মহা-উৎসব ইউনুসের আমলে চলতো তা এখনো চলমান জানিয়ে গৌতম লাহিড়ী প্রমাণ দাঁড় করিয়ে বলেন, নুর মোহাম্মদের গ্রেফতার, বিএনপি নেতা তার কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন কিন্তু নুর মোহাম্মদ দিতে রাজি না হওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বিষহ। মানুষ অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন- আর যারা জীবন জীবিকা দিবেন সেই শিল্পপতিরাও নানা সমস্যায় রয়েছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে এনসিপি নামক যে দল হয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশে চাঁদাবাজির উৎসব শুরু করেন। দেশের বড় বড় শিল্পপতিরা তখন বাধ্য হলেন এদের সন্তুষ্ট করতে। এনসিপি চাঁদা চাইলো এবং শিল্পপতিরাও বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে দিল।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, শিল্পপতিরা ভেবেছিলো এখন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, এখন আর সমস্যা হবে না, কিন্তু একই অবস্থা রয়ে গেল, কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঢাকার একজন এমপি এখনো শিল্পপতিদের হুমকি দেন চাঁদা না দিলে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবথেকে জরুরি হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেল, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল এনে শোধন করে বাংলাদেশের বাজারে দেওয়া হয় কিন্তু বিএনপি নেতাদের চাঁদা না দিলে সেটাও করতে দেবে না তারা।
গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করে বলেন, এতে ক্ষতি কাদের হবে? শিল্পপতিদেরতো ক্ষতি হবেই সেই সাথে দেশের মানুষের অনেক বেশি ক্ষতি হবে। এ থেকেই বুঝা যায় বাংলাদেশে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিএনপি সরকার বর্তমানে যা করছে তা ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কাজের সাথে মিল পাওয়া যায়। প্রথম দু বছর খালেদা জিয়া ভালোই চালিয়েছেন। তখন ভারতসহ বিভিন্ন দেশ খুশি ছিলো। তারপরে কিন্তু ভারত এবং আমেরিকাও বিএনপি সরকারের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওয়ান ইলেভেনের পর যে নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয় লাভ করেন সে নির্বাচন পুরো বিশ্বের কাছে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হিসেবে গণ্য হয়েছিলো।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরবেন – সেদিন তাঁর শতভাগ নিরাপত্তার বিষয়ে ভারত পাশে থাকবে।
পশ্চিমা শক্তি এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন তা বলবো না, তবে তাদের মত পাল্টাতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সাথে আমার মাঝে মধ্যে কথা হয়, তাতে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি যখন বলেছেন দেশে ফিরবেন, অবশ্যই ফিরবেন। তাঁর এই ফিরবেন বলার পিছনে নিশ্চই গভীর পরিকল্পনা আছে। হয়তো বিভিন্ন কৌশলগত কারণে শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করছেন না।
গৌতম লাহিড়ীর দাবি – শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন আর্মি দিয়েও দমিয়ে রাখতে পারবে না।
ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব কয়েক রেন সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন প্রধান সম্পাদক আইবিএননিউজ২৪.কম হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও কবি শফিক বাবু।এতে দেশ-বিদেশের অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক,কবি, সাহিত্যিক,কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গন বক্তব্য রাখেন ।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
বাপসনিউজঃ আমি নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি, সেই আলোকেই আমি কথা বলি।খবর আইবিএননিউজ ।
ফেডারেল প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার নবনির্বাচিত সভাপতি গৌতম লাহিড়ী গত ২৯ জুন ২০২৬,সোমবার “স্মরণে ৭১,হৃদয়ে বাংলাদেশ” সংগঠনের প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জামাতের সাথে বিএনপির বিরোধ লোক দেখানো, কারণ লোক দেখানো যদি নাই হতো তাহলে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় যেতেন না।
মালয়েশিয়ার প্রধান মন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জামাত শিবিরের সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে গৌতম লাহিড়ী আরও বলেন বেশ কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া সরকার কিছু জঙ্গি গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যা জামায়াত ইসলাম ভালো ভাবে নেয়নি। জামাত ইসলামই মালয়েশিয়া সফরের জন্য তারেক রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে এবং তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যেতে বাধ্য হন।এ সফরের মূল বিষয় হচ্ছে জঙ্গিদের গ্রেফতার করে যেন ফেরত না পাঠানো হয়।
গৌতম লাহিড়ী আরো জানান, মালয়েশিয়া থেকে তারেক রহমান চীন যান, সেখানে তিনি আর্থিক সাহায্য চান। চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন – সেগুলো নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তারেক রহমান। শি জিংপিং চাচ্ছেন মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে একটি করিডর তৈরি করতে, যেটাতে আমেরিকারও সুবিধা হবে কিন্তু তারেক রহমান ভালো করেই জানেন এই করিডর দিলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
বিএনপি সরকারের ওপর অনেক দেশই এখন অসন্তুষ্ট তার চীন সফরের কারণে। তারেক রহমানের যে উদ্যোগ সে উদ্যোগের কারণে বিএনপি সরকারকে বিপদে ফেলছে।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, জনগণ মনে করেছিলেন বিএনপি সরকার গঠন করার পর এমন কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবেন যা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম থেকে ভিন্ন হবে, কিন্তু এখন যা দেখা যাচ্ছে চাপে হোক কিংবা অন্য কারণেই হোক তারেক রহমান সরকারের চিন্তা বাংলাদেশে প্রগতিশীল শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে না দেওয়া। সেটা আওয়ামী লীগ হতে পারে বা আওয়ামী লীগের সমর্থক কোন উদারপন্থী ব্যক্তিও হতে পারে।
চাঁদাবাজির যে মহা-উৎসব ইউনুসের আমলে চলতো তা এখনো চলমান জানিয়ে গৌতম লাহিড়ী প্রমাণ দাঁড় করিয়ে বলেন, নুর মোহাম্মদের গ্রেফতার, বিএনপি নেতা তার কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন কিন্তু নুর মোহাম্মদ দিতে রাজি না হওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বিষহ। মানুষ অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন- আর যারা জীবন জীবিকা দিবেন সেই শিল্পপতিরাও নানা সমস্যায় রয়েছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে এনসিপি নামক যে দল হয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশে চাঁদাবাজির উৎসব শুরু করেন। দেশের বড় বড় শিল্পপতিরা তখন বাধ্য হলেন এদের সন্তুষ্ট করতে। এনসিপি চাঁদা চাইলো এবং শিল্পপতিরাও বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে দিল।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, শিল্পপতিরা ভেবেছিলো এখন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, এখন আর সমস্যা হবে না, কিন্তু একই অবস্থা রয়ে গেল, কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঢাকার একজন এমপি এখনো শিল্পপতিদের হুমকি দেন চাঁদা না দিলে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবথেকে জরুরি হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেল, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল এনে শোধন করে বাংলাদেশের বাজারে দেওয়া হয় কিন্তু বিএনপি নেতাদের চাঁদা না দিলে সেটাও করতে দেবে না তারা।
গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করে বলেন, এতে ক্ষতি কাদের হবে? শিল্পপতিদেরতো ক্ষতি হবেই সেই সাথে দেশের মানুষের অনেক বেশি ক্ষতি হবে। এ থেকেই বুঝা যায় বাংলাদেশে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিএনপি সরকার বর্তমানে যা করছে তা ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কাজের সাথে মিল পাওয়া যায়। প্রথম দু বছর খালেদা জিয়া ভালোই চালিয়েছেন। তখন ভারতসহ বিভিন্ন দেশ খুশি ছিলো। তারপরে কিন্তু ভারত এবং আমেরিকাও বিএনপি সরকারের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওয়ান ইলেভেনের পর যে নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয় লাভ করেন সে নির্বাচন পুরো বিশ্বের কাছে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হিসেবে গণ্য হয়েছিলো।
গৌতম লাহিড়ী বলেন, শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফিরবেন – সেদিন তাঁর শতভাগ নিরাপত্তার বিষয়ে ভারত পাশে থাকবে।
পশ্চিমা শক্তি এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন তা বলবো না, তবে তাদের মত পাল্টাতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সাথে আমার মাঝে মধ্যে কথা হয়, তাতে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি যখন বলেছেন দেশে ফিরবেন, অবশ্যই ফিরবেন। তাঁর এই ফিরবেন বলার পিছনে নিশ্চই গভীর পরিকল্পনা আছে। হয়তো বিভিন্ন কৌশলগত কারণে শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করছেন না।
গৌতম লাহিড়ীর দাবি – শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন আর্মি দিয়েও দমিয়ে রাখতে পারবে না।
ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব কয়েক রেন সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন প্রধান সম্পাদক আইবিএননিউজ২৪.কম হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও কবি শফিক বাবু।এতে দেশ-বিদেশের অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক,কবি, সাহিত্যিক,কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গন বক্তব্য রাখেন ।

আপনার মতামত লিখুন