জামালপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের একমাত্র আস্থার জায়গা ‘দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব’ (SJPC) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার কারণে স্থবির হয়ে পড়া এই প্রতিষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও গতিশীল করতে বিলুপ্ত করা হয়েছে পূর্বের কমিটি। এর পরিবর্তে গঠিত হয়েছে অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি।
২০২৫ সালে একঝাঁক উদ্যমী সাংবাদিকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব। যার মূল উদ্যোক্তা ছিল চারজন সাংবাদিক ১.শাহ আলম ২.আনোয়ার হোসাইন ৩.আল বিল্লাল খান ৪.ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া। তাদের উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মরত সাংবাদিকদের প্রস্তাব করা হয়। ঐ সময় তাদের ডাকে সাড়া দেন সাংবাদিক খোরশেদ আলম,ও সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, অতঃপর ছয়জন মিলে স্থানীয় একটি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে বসে পাঁচজনের মতামত অনুযায়ী প্রেসক্লাব গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঐ বৈঠকেই সকলের মতামত অনুযায়ী প্রেসক্লাবের নামকরণ করা হয় (দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব) যা সংক্ষেপে দাঁড়ায় (SJPC) অতঃপর জামালপুর প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও, সময়ের আবর্তে সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে বর্তমান নেতৃত্ব কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোতে সদস্যদের অংশগ্রহণ না থাকা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং পেশাদার সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এতে ক্লাবের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।
সংগঠনের স্বার্থে ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের সাথে দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জনাব মোঃ মনজুরুল হক মঞ্জু এবং মোঃ খোরশেদ আলমের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ীই মূলত ক্লাবকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৬ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যায় ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ হলো:
১. সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা: ক্লাবের ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড এবং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করা।
২. পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা: স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা ও সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
৩. সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা।
৪. সামাজিক দায়বদ্ধতা: প্রেসক্লাবকে শুধুমাত্র একটি সংগঠনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা।
নতুন এই কমিটিতে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে:
১.আহ্বায়ক: মোঃ খোরশেদ আলম ২.সদস্য সচিব: শাহ আলম ৩.সদস্যবৃন্দ: আল বিল্লাল খাঁন, আনোয়ার হোসাইন, শাহিনুর রহমান শাহিন, ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম, এস এম খোকন, সাইফুল ইসলাম, ফকির মোঃ আবুল কাশেম এবং বিলাত আলী।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব হবে দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকদের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তারা বলেন, “আমরা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা এবং সত্যের পক্ষে কাজ করা।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আহ্বায়ক কমিটির এই পদক্ষেপ সাংবাদিকদের মধ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসন করবে এবং দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এই নতুন নেতৃত্ব কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জামালপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের একমাত্র আস্থার জায়গা ‘দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব’ (SJPC) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার কারণে স্থবির হয়ে পড়া এই প্রতিষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও গতিশীল করতে বিলুপ্ত করা হয়েছে পূর্বের কমিটি। এর পরিবর্তে গঠিত হয়েছে অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি।
২০২৫ সালে একঝাঁক উদ্যমী সাংবাদিকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব। যার মূল উদ্যোক্তা ছিল চারজন সাংবাদিক ১.শাহ আলম ২.আনোয়ার হোসাইন ৩.আল বিল্লাল খান ৪.ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া। তাদের উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মরত সাংবাদিকদের প্রস্তাব করা হয়। ঐ সময় তাদের ডাকে সাড়া দেন সাংবাদিক খোরশেদ আলম,ও সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, অতঃপর ছয়জন মিলে স্থানীয় একটি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে বসে পাঁচজনের মতামত অনুযায়ী প্রেসক্লাব গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঐ বৈঠকেই সকলের মতামত অনুযায়ী প্রেসক্লাবের নামকরণ করা হয় (দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব) যা সংক্ষেপে দাঁড়ায় (SJPC) অতঃপর জামালপুর প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও, সময়ের আবর্তে সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে বর্তমান নেতৃত্ব কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোতে সদস্যদের অংশগ্রহণ না থাকা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং পেশাদার সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এতে ক্লাবের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।
সংগঠনের স্বার্থে ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের সাথে দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জনাব মোঃ মনজুরুল হক মঞ্জু এবং মোঃ খোরশেদ আলমের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ীই মূলত ক্লাবকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৬ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যায় ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ হলো:
১. সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা: ক্লাবের ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড এবং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করা।
২. পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা: স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা ও সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
৩. সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা।
৪. সামাজিক দায়বদ্ধতা: প্রেসক্লাবকে শুধুমাত্র একটি সংগঠনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা।
নতুন এই কমিটিতে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে:
১.আহ্বায়ক: মোঃ খোরশেদ আলম ২.সদস্য সচিব: শাহ আলম ৩.সদস্যবৃন্দ: আল বিল্লাল খাঁন, আনোয়ার হোসাইন, শাহিনুর রহমান শাহিন, ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম, এস এম খোকন, সাইফুল ইসলাম, ফকির মোঃ আবুল কাশেম এবং বিলাত আলী।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাব হবে দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকদের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তারা বলেন, “আমরা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা এবং সত্যের পক্ষে কাজ করা।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আহ্বায়ক কমিটির এই পদক্ষেপ সাংবাদিকদের মধ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসন করবে এবং দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এই নতুন নেতৃত্ব কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন