দৈনিক তরুন আলো

সন্ধ্যা হলেই এখন আর মধুচক্র বসে না, বসে অনলাইন জুয়ার আসর



সন্ধ্যা হলেই এখন আর মধুচক্র বসে না, বসে অনলাইন জুয়ার আসর

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা, খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নজুড়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এলাকাবাসীর দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৬০ জন সাব-এজেন্ট এবং ১৫ থেকে ২০ জন মাস্টার এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি রাত নামলেই অনেক তরুণ মাদকাসক্তির দিকেও ঝুঁকে পড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, “এখনই যদি অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে যুব সমাজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়ে যাবে।”

এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা একসময় দিনমজুর বা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন বা দুদক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসতে পারে কীভাবে রাতারাতি তাদের এই সম্পদের উত্থান ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি দিনভর ঘুমিয়ে থেকে রাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ান এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এক সময় সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় মধুচক্র ও আড্ডার আসর বসতে দেখা যেত। চায়ের স্টল কিংবা নিরিবিলি জায়গাগুলোতে চলত বিভিন্ন খেলার উপর বাজি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন জুয়ার ধরনও হয়েছে ডিজিটাল।

বর্তমানে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিচ্ছে অনেক তরুণ। বিশেষ করে আইপিএলসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি খেলাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গুড়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা। সহজে টাকা আয়ের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। তাদের প্ররোচনায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তরুণ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ংকর আসক্তিতে। ফলে অনেক পরিবারে সৃষ্টি হচ্ছে অশান্তি ও আর্থিক সংকট।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আপনারা তথ্য সংগ্রহ করেন, প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়াও ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পরিবার থেকে নজরদারি বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই যুব সমাজকে এই ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক তরুন আলো

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


সন্ধ্যা হলেই এখন আর মধুচক্র বসে না, বসে অনলাইন জুয়ার আসর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image



পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা, খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নজুড়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এলাকাবাসীর দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৬০ জন সাব-এজেন্ট এবং ১৫ থেকে ২০ জন মাস্টার এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি রাত নামলেই অনেক তরুণ মাদকাসক্তির দিকেও ঝুঁকে পড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, “এখনই যদি অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে যুব সমাজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়ে যাবে।”


এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা একসময় দিনমজুর বা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন বা দুদক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসতে পারে কীভাবে রাতারাতি তাদের এই সম্পদের উত্থান ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি দিনভর ঘুমিয়ে থেকে রাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ান এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


এক সময় সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় মধুচক্র ও আড্ডার আসর বসতে দেখা যেত। চায়ের স্টল কিংবা নিরিবিলি জায়গাগুলোতে চলত বিভিন্ন খেলার উপর বাজি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন জুয়ার ধরনও হয়েছে ডিজিটাল।


বর্তমানে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিচ্ছে অনেক তরুণ। বিশেষ করে আইপিএলসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি খেলাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গুড়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা। সহজে টাকা আয়ের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। তাদের প্ররোচনায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তরুণ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ংকর আসক্তিতে। ফলে অনেক পরিবারে সৃষ্টি হচ্ছে অশান্তি ও আর্থিক সংকট।


এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আপনারা তথ্য সংগ্রহ করেন, প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এছাড়াও ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পরিবার থেকে নজরদারি বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই যুব সমাজকে এই ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


দৈনিক তরুন আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: এমডি সিফাত হোসাইন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক তরুন আলো https://dailytarunalo.com/ সম্পাদক ও প্রকাশক এমডি : সিফাত হোসাইন https://www.facebook.com/share/1GNdTjcmxp/ অফিস ঠিকানা: ইম্পেরিয়াল আইরিশ কিংডম, লেভেল-০২ পশ্চিম মেরুল বাড্ডা, ঢাকা-১২১২.! যোগাযোগ : +880 1877-731864